Sunday, December 5, 2021

রাজধানীর মিরপুর–১–এর বাসিন্দা নওশিন শবনম গত বছরের অক্টোবর মাসে একটি ট্রেডমিল কেনেন। স্টেডিয়াম মার্কেটের ফিলকো স্পোর্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ব্যায়ামের এই যন্ত্র কেনেন। কেনার তিন দিন পর দেখতে পান, যন্ত্রটি কিছুক্ষণ চালানোর পর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে। এই ত্রুটির ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগাযোগ করেন ট্রেডমিলটি পাল্টে নেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এতে কোনো সাড়া দেয়নি। তিনি টাকা ফেরত চাইলেও দেয়নি, এমনকি যন্ত্রটি ঠিক করে দেওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে জানায় তারা। বেশ কিছু দিন ওই প্রতিষ্ঠানে ধরনা দেওয়ার পর কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ই–মেইলে অভিযোগ করেন।

নওশিন প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ জানানোর ২০ থেকে ২৫ দিন পর অধিদপ্তর থেকে তাঁদের দুই পক্ষকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে এসেই পাল্টে যায় ওই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে দুটো প্রস্তাব দেওয়া হয়—পুরো অর্থ ফেরত অথবা নতুন ট্রেডমিল। তারা নতুন ট্রেডমিল দিতে রাজি হয়। শুনানির তিন দিন পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন আরেকটি ট্রেডমিল নিয়ে বাড়ি ফেরেন নওশিন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া যায় বলে অভিযোগের ধরনে এখন বৈচিত্র্য আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার ঘটনাগুলো প্রচার পায়, পণ্য কিনে ঠকে যাওয়া ক্রেতারা অভিযোগ করার মতো আস্থা পাচ্ছেন। এ কারণে আগের চেয়ে অভিযোগের ধরনেও নতুনত্ব এসেছে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানকে করা জরিমানার ২৫ শতাংশ পান অভিযোগকারী, এ বিষয়ও ক্রেতা-গ্রাহকদের অভিযোগ করার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে শুধু বোতলজাত পানি ও কোমল পানীয়র দাম বোতলের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি রাখার অভিযোগ আসত বেশি। বছর দেড়েক ধরে অভিযোগের ধরনের বৈচিত্র্য এসেছে। মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান, অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং, খাদ্যপণ্যসহ নানা পণ্যের ব্যাপারে অভিযোগ আসছে। তাঁর মতে, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি প্রচার হওয়ায় লোকজনের আস্থা এসেছে যে অভিযোগ করলে প্রতিকার পাওয়া যায়। এ কারণে দিন দিন অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে।

দেশের একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে শাহীন আরা মমতাজ বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের বিস্কুটের মোড়কে বাদাম ও তিলভর্তি আকর্ষণীয় বিস্কুটের ছবি দেওয়া আছে। ছয় মাস আগে একজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, মোড়ক খোলার পর বিস্কুটের সঙ্গে মোড়কের ছবির কোনো মিল পাননি, বাদাম প্রায় নেই বললেই চলে, বেশির ভাগ তিল বিস্কুট থেকে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বাজার থেকে ওই বিস্কুটের প্যাকেট কিনে আনি। প্যাকেট খুলেই অভিযোগের সত্যতা পাই। খুবই নিম্নমানের বিস্কুট, বাদাম সামান্য আর মুচমুচেও না।’ তিনি আরও বলেন, আইনের ৪৪ ধারা ‘মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতাসাধারণকে প্রতারিত করা’ অনুসারে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ধারায় ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত বিস্কুটের বিজ্ঞাপনের জন্য জরিমানা করা হয়। শুনানিতে ওই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি। আইন অনুসারে অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

0 Comments

Leave a Comment

This is a Sidebar position. Add your widgets in this position using Default Sidebar or a custom sidebar.
error: Content is protected !!