Wednesday, March 3, 2021

আগে সবাইকে দেখতাম ৩দিনে কেওক্রাডং ট্যুর দিতে। আমরা অনেক বিশ্লেষণ করে ভাবলাম যে, নাহ আমরা ২দিন এই কেওক্রাডং যাব এবং আসব কিন্তু বাকি একদিন কই যাওয়া যায়!!!! তাই সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম ৩য় দিন রাঙামাটি যাব। যেই ভাবা সেই কাজ।

চলে গেলাম ১০ জন মিলে শনিবার ২৯ এপ্রিল রাত ৮টার হানিফে। সকালে বান্দরবন শহর থেকে নাস্তা করে রূমা যাওয়ার প্রথম ট্রিপ ৮টার গাড়িতে রূমা। আর্মিদের কিছু ফর্মালিটি পালন করে আগেই ঠিক করা গাইডের মাধ্যমে রিজার্ভ চান্দের গাড়িতে কমলা বাজার।
নেমেই পাহাড় উঠতে হবে দেখে তরতর করে উঠা শুরু। যেহেতু ১২টা বেজে গেছে কিন্তু বান্দরবন এসেও এতোক্ষণ কোন পাহাড়ে উঠা হয় নি তাই আনন্দে খুব তাড়াতাড়ি উঠে পড়তে লাগলাম। কিন্তু বিধি বাম। পুরা কেওক্রাডং উঠতেও এতো খাড়া পাহাড় ছিল যেটা শুরুতে ছিল। তারপর মাঝে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বগালেক এ আর্মি ক্যাম্পে সাইন করে ২টার দিকে রওনা দিলাম কেওক্রাডং এর পথে। কলা পেপে আম খেতে খেতে আর পাহাড়ি রাস্তা উঠতে উঠতে চলে গেলাম ৫. ৩০ দিকে কেওক্রাডং। এর অল্প কিছু আগে ছিল দার্জিলিংপাড়া। বগালেক থেকে কেওক্রাডং এর পথে এই একটাই লোকালয়।

আমাদের আগে থেকে রুম এবং খাবার এর কথা বলা ছিল। আমরা যখন চূড়ায় পৌছাই তখন শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। ঘন্টাখানেক বৃষ্টি হওয়ার পর ধীরেধীরে আকাশ পরিষ্কার হতে লাগল। পুর্ণিমা হওয়াতে কিছুক্ষণ এর মধ্যেই চারদিক জ্যোৎস্নায়য় আলোকিত হয়ে গেল।
জ্যোৎস্নাবিলাস করে ক্লান্ত থাকায় ঘুমাতে গেলাম সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে সূর্যোদয় দেখব বলে।

কেওক্রাডং এর একেবারে পূর্ব পাশে আমদের রুম থাকায় আমদের কটেজ থেকেই সূর্যোদয় দেখা যাচ্ছিল। সূর্যোদয় দেখে নাস্তা করে আমরা ফেরার পথে রওনা দিলাম। ৮.১৫ তে বের হলাম ১০.৩০ টায় বগালেক চলে আসলাম। তারপর কমলা বাজার থেকে চান্দের গাড়িতে এসে দুপুরে রুমা বাজার খাওয়াদাওয়া করে বাসে করে চলে আসলাম বান্দরবন। তবে বাসে আসার পথে পড়লাম ঝড়ের কবলে। বাতাসের কারনে পাহাড়ের উপরে এবং ঢালে বাসের গতি অনেক কমে আসতে ছিল। প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ ই কখনো বেশি উপভোগ্য। পাহাড়ি পথে বৃষ্টি উপভোগ করতে করতে চলে এলাম বান্দরবন। বান্দরবন শহরে আসার পর বৃষ্টির কারনে আর কোথাও না যেয়ে হোটেলেই এবং এর আশেপাশে বাকি সময় কাটালাম।

আমাদের হাতে একদিন বেশি সময় থাকার কারনে আমরা শেষদিন কাপ্তাই ঘুরাঘুরি এবং কায়াকিং করার চিন্তা করলাম। মে দিবস হওয়ায় সকালে কোন বাস ছিল না। আমরা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করেই রাঙামাটি গেলাম। কায়াকিং করার পর দুপুরে পৌছালাম লেকে। শুভলং ঝরনা দেখে আসার পথে আবার ছোটখাট একটা ঝড়ের কবলে। তবে এসব জায়গায় এগুলা কখনো কখনো প্রকৃতির ভয়ংকর সৌন্দর্য তুলে ধরে।সন্ধায় রাঙামাটি এসে একবারে দুপুর আর রাতের খাবার খেয়ে বাসে করে ঢাকা রওনা দিলাম।

এক নজরে খরচসমূহ:
ঢাকা থেকে বান্দরবন ৬২০/-
১ম দিন
বান্দরবন থেকে রুমা বাস স্ট্যান্ড ১০/-
বাস ভাড়া ১১০/-
*ফর্ম ৮০/-
*রুমা থেকে কমলা বাজার চান্দের গাড়ি ২৫০০/-
কেওক্রাডং রাতে থাকা ৩০০/-
কেওক্রাডং রাতের খাবার ১৩০/- (ডিম ভর্তা ডাল ভাত) চা ১০/-
২য় দিন
কেওক্রাডং সকালের খিচুরি ১০০/-
*কমলা বাজার থেকে রুমা ২৭০০/-
রিটার্ন বাস ভাড়া ১১০
রুমা বাস স্ট্যান্ড থেকে বান্দরবন শহর অটো ১৫/-
*গাইড ২ দিন ১২০০/-
*বান্দরবনে রাতে থাকা ১৫০০/-
৩য় দিন
*চান্দের গাড়ি ৪০০০/-
কায়াকিং ৭৫/- (৩০ মি. স্টুডেন্ট কার্ড থাকা সাপেক্ষে, ১ঘন্টা ১০০/-)- প্রতি বোটে ২জন।
*বোট ১৮০০/-
রাঙামাটি থেকে ঢাকা ৬২০/-

আমাদের খাওয়াদাওয়া ছিল প্রচুর পরিমানে এবং কোন নিয়ম মাফিক ছিল নাহ। তাই সব বেলার গুলা লেখা সম্ভব হয়নি।

#কয়েক বার আর্মি ক্যাম্পে সাইন করতে হবে,কোনভাবে বিরক্তি প্রকাশ করবেন না, সব আপনার সেফটির জন্য।

#স্টার (*) মার্ক করা খরচ গুলো গ্রুপ মেম্বার দিয়ে ভাগ করে যত আসবে তত হবে।

#গ্রুপ মেম্বার দের মধ্যে কেউ যদি কেউক্রাডং না যায়,তাহলে তাকে বগালেক ই থাকতে হবে,একা ফিরে আসার সুযোগ নাই। সব এক সাথে চেক ইন,একসাথে চেক আউট।

# ৮কি.মি. এর বেশি পাহাড়ি রাস্তা, প্রায় ৪ঘন্টা হাটার মত মানষিকতা নিয়ে যেতে হবে। ক্রিকেটীয় ভাষায় বলতে গেলে আপনাকে টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা চিন্তা করতে হবে। টি২০ অথবা ওয়ানডে ভাবলে চলবে নাহ।

#পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন, ময়লা করবেন না, চূড়া কিংবা ট্রাকিং ওয়ে কোন স্থানেই না।

সাধারণত যে জায়গায় যেতে বেশিরভাগ মানুষ ৫দিন অতিবাহিত করে আমরা তা ঘুরে আসলাম ৩দিনে। ইহাই সার্থকতা।

ট্যুরে তোলা বিভিন্ন ছবির অ্যালবামঃ https://www.facebook.com/media/set/…

#হ্যাপি_ট্রাভেলিং

0 Comments

Leave a Comment

This is a Sidebar position. Add your widgets in this position using Default Sidebar or a custom sidebar.
error: Content is protected !!